Monday, April 14, 2025

ইস্তিঞ্জার দুয়া ও আদব

 ইস্তিঞ্জা: ইস্তিঞ্জা বলতে প্রসাব ও পায়খানার রাস্তা থেকে নির্গত অপবিত্রতা থেকে পানি দ্বারা পবিত্র হওয়া বোঝায়।

ইস্তিজমার: ইস্তিজমার হলো প্রসাব ও পায়খানার রাস্তা থেকে নির্গত অপবিত্রতা পাথর বা কাগজ বা অনুরূপ জিনিস দ্বারা দূর করা।

ওয়াশরুমে প্রবেশের সময় বাম পা দিয়ে প্রবেশ করা এবং এ দো‘আ পড়া-


                            بسم اللّه، أَعُوذُ بِاللهِ مِنَ الْخُبْثِ وَالْخَبَائِث


বিসমিল্লাহ, আমি মন্দকাজ ও শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাচ্ছি”।
[সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৪২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৭৫]

আর বের হওয়ার সময় ডান পা আগে দিয়ে বের হওয়া এবং এ দো‘আ পড়া,


                         غُفْرَانَكَ، الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنِّي الْأَذَى وَعَافَانِي


“হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমার থেকে কষ্ট দূর করেছেন এবং স্বস্তি দান করেছেন”।
[হাদীসের প্রথম অংশটুকু আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ৩০। আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। আর দ্বিতীয় অংশটুকু ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ৩০১। আলবানী রহ. হাদীসটিকে দ‘য়ীফ বলেছেন ]


প্রসাব-পায়খানা করার কিছু শরঈ আদব: 

  • প্রসাব-পায়খানার সময় বাম পায়ের উপর ভর দিয়ে বসা মুস্তাহাব
  • খালি জায়গায় প্রসাব-পায়খানা না করে মানুষের দৃষ্টির বাহিরে নির্জন স্থানে বসা উত্তম। 
  • প্রসাব করার সময় নরম স্থান নির্বাচন করা, যাতে প্রসাবের ছিটা থেকে পবিত্র থাকা যায়।

প্রসাব-পায়খানা করার ক্ষেত্রে যেসব কাজ মাকরূহ:

  • অতি প্রয়োজন ছাড়া আল্লাহর নাম আছে এমন কোনো কিছু সাথে নেওয়া 
  • জমিনের কাছাকাছি না হওয়ার আগে কাপড় তোলা।
  • কথা বলা।
  • গর্তে প্রসাব করা।
  • ডান হাত দিয়ে লজ্জাস্থান স্পর্শ করা।
  • ডান হাত দিয়ে ঢিলা ব্যবহার করা।

প্রসাব-পায়খানা করার ক্ষেত্রে যেসব কাজ হারাম:

  • উন্মুক্ত স্থানে পেশাব-পায়খানার সময় কিবলার দিকে মুখ বা পিঠ ফিরিয়ে বসা হারাম। আর ঘরের মধ্যে বসা জায়েয, তবে না বসা উত্তম।
  • চলাচলের রাস্তা, বসা ও বিশ্রামের জায়গায়, ফলদার ছায়াদার গাছ ইত্যাদির নিচে প্রসাব-পায়খানা করা হারাম।

যেসব বস্তু দ্বারা প্রসাব-পায়খানা  শেষে পবিত্র হওয়া বৈধ:

  • পবিত্র মাটির ঢিলা, টিস্যু বা পাথর ব্যবহার করা যাবে। এসব বস্তু  দ্বারা তিনবার শৌচকর্ম করা মুস্তাহাব। এতে ভালোভাবে পবিত্র না হলে সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করা যাবে। তবে বেজোড় সংখ্যা তিন বা পাঁচ বা ততোধিক বেজোড় সংখ্যা ব্যবহার করা দ্বারা কাজটি শেষ করা সুন্নাত।

যেসব বস্তু দ্বারা প্রসাব-পায়খানা  শেষে পবিত্র হওয়া বৈধ নয়:

  • হাড়
  • গোবর
  • খাদ্য
  • সম্মানিত জিনিস 
  • তরকারির ঝোল
    উপরোক্ত বস্তু দ্বারা ঢিলা করা হারাম।

পানি, টিস্যু ও পাতা ইত্যাদি দিয়ে ঢিলা করা জায়েয। তবে শুধু পানি ব্যবহার করার চেয়ে পাথর ও পানি একত্রে ব্যবহার করা উত্তম। কাপড়ে অপবিত্রতা লাগলে তা পানি দিয়ে ধৌত করা ফরয। আর যদি অপবিত্র স্থান অজ্ঞাত থাকে তবে পুরো কাপড় পানি দিয়ে ধৌত করতে হবে।


খাবার খাওয়ার দুয়া ও আদব

আমরা জীবনধারণের জন্য প্রতিদিন নিয়মিত যে খাবার গ্রহণ করি, তার কিচু আদব আছে যা আমরা অনেকেই জানিনা বা জানলেও মানি না। চলুন জেনে নিই সুন্নাহ মোতাবেক কিছু আদব-

  • খাবার গ্রহণের আগে দোয়া পাঠ করা সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে খাবারে বিসমিল্লাহ পড়া হয় না, সে খাবারে শয়তানের অংশ থাকে। সেই খাবার মানুষের সঙ্গে শয়তানও ভক্ষণ করে।’ (মুসলিম, হাদিস: ৫৩৭৬)

    খাবার শুরুর আগের দোয়া-

             بِسْمِ اللّهِ وَ عَلى بَرَكَةِ اللهِ

    উচ্চারণঃ- বিসমিল্লাহি ও‘আলা বারাকাতিল্লাহ
    অর্থ : আল্লাহর নামে তাঁর বরকতের প্রত্যাশায় শুরু করলাম।

  • খানা খাওয়ার শুরুতে দোয়া পড়তে ভুরে গেলে খানার মাঝে স্মরণ আসার পর এই দোয়া পড়তে হয়-   
                 بِسْمِ اللهِ أَوَّلَه وَآخِرَه

    উচ্চারণঃ- বিসমিল্লাহি আউয়্যালাহু ওয়া আখীরাহ। 
    অর্থ: আমি আল্লাহ তায়ালার নামে খানা খাওয়া শুরু করছি। প্রথমেও আল্লাহ তায়ালার নাম, পরিশষেও আল্লাহ তায়ালার নাম। (শামায়েলে তিরমিযী, আবু দাউদ, আহমদ, দারেমী)।

    খানা খাওয়ার শেষে এই দোয়া পড়তে হয়- 

                 اَلْحَمْدُ لِلّهِ الَّذِيْ اَطْعَمَنَا وَ سَقَانَا وَ جَعَلَنَا مِنَ الْمُسْلِمِيْن 

    উচ্চারণঃ- আলহামদুলিল্লাহিল্লাজী আতআ‘মানা ওয়া ছাক্বানা ওয়া জাআলানা মিনাল মুসলিমীন। 
    অর্থ : সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের খাইয়েছেন, পান করিয়েছেন এবং মুসলিম বানিয়েছেন।

    কারও বাসায় দাওয়াত খাওয়ার পর এই দোয়া পড়তে হয়-

            اَللّهُمَّ اَطْعِمْ مَنْ اَطْعَمَنِيْ وَ اَسْقِ مَنْ سَقَانِيْ

    উচ্চারণঃ- আল্লাহুম্মা আতঈম মান আত‘আামনী ওয়া আস্কী মান সাকানী।

  • খাবার গ্রহণের আগে ও পরে হাত ধোয়া আবশ্যক। না হয় বিভিন্ন ধরনের অসুখ দেখা দিতে পারে।

  • রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানাহারের আগে এবং পরে উভয় হাত কব্জি পর্যন্ত ধোয়ার আদেশ করেছেন। বর্তমানে আমরা এক হাত ধৌত করি এটা সুন্নাতের পরিপন্থী। (শামায়েল/ মুসনাদে আহমাদ ও ইবনে মাজাহ)

  • দস্তরখান বিছিয়ে খাবার খাওয়া। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা দস্তরখানা বিছিয়ে খানা খেতেন। (বোখারী শরীফ : হাদীস নং ৫৩৮৬) 

  • খাবার শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ ও শেষে ‘আলহামদুল্লিাহ’ বলা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খানার শুরুতে বিসমিল্লাহ এবং শেষে আলহামদুলিল্লাহ পড়তেন ( এবং বলতেন, যে নেয়ামতের শুরুতে বিসমিল্লাহ এবং শেষে আলহামদুলিল্লাহ বলা হয়, সে নেয়ামতের হিসাব নেয়া হবে না। (মুসলিম শরীফ, বুখারী শরীফ, ইবনে হিশাম)

  • গরম খাবার ঠান্ডা হ’লে খেতে শুরু করা।

  • দাঁড়িয়ে পানাহার না করা।

  • ডান হাত দিয়ে খাওয়া। 

  • রাসুল (সা.) আজীবন ডান হাত দিয়ে খাবার খেয়েছেন। বাম হাত দিয়ে খাবার খেতে নিষেধ করেছেন তিনি।কেননা শয়তান বাম হাতে খায় ও পান করে।(তবে একান্ত প্রয়োজন হলে বাম হাতে খেতে পারবে,যেমন ডানহাত না থাকলে) ’ ( সূত্র-বুখারী, হাদিস নং: ৫৩৭৬; মুসলিম, হাদিস নং: ২০২২)

  • হাত চেটে খাওয়া।

  • রাসুল (সা.) খাওয়ার সময় সর্বদা হাত চেটে খেতেন। ’ (বুখারি, হাদিস নং : ৫২৪৫) 

  • রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দস্তরখানায় অথবা পেয়ালা থেকে পড়ে যাওয়া খাবার তুলে খেতেন এবং বলতেন পড়ে যাওয়া লোকমা শয়তানের জন্য ছেড়ে দিওনা।

  • খাবার গ্রহণের সময় কখনো কখনো প্লেট থেকে এক-দুইটি ভাত, রুটির টুকরো কিংবা অন্য কোনো খাবার পড়ে যায়। সম্ভব হলে এগুলো তুলে পরিচ্ছন্ন করে খাওয়া।  [ সূত্র-তিরমিজি, হাদিস নং : ১৯১৫; ইবনে মাজাহ, হাদিস নং : ৩৪০৩ ]

  • রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনের থেকে খাওয়া শুরু করতেন এবং খানার মাঝে হাত দেওয়া থেকে বারণ করতেন আর বলতেন খানার মাঝে বরকত থাকে। ( বুখারী শরীফ, তিরমিযী শরীফ, ইবনে মাজা শরীফ)

  • হেলান দিয়ে না খাওয়া।

  • কোনো কিছুর ওপর হেলান দিয়ে খাবার খেতে তিনি নিষেধ করেছেন। হেলান দিয়ে খাবার খেলে পেট বড় হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে দাম্ভিকতা প্রকাশ পায়। (সূত্র-বুখারি, হাদিস নং: ৫১৯০; তিরমিজি, হাদিস নং: ১৯৮৬)

  • খাবারের দোষ-ত্রুটি না ধরা।

  • শত চেষ্টা সত্ত্বেও খাবারে দোষ-ত্রুটি থেকে যাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু এ নিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঝগড়াঝাটি করা নিতান্ত বেমানান। রাসুল (সা.) কখনো খাবারের দোষ ধরতেন না।পছন্দ হলে খেতেন, আর অপছন্দ হলে খেতেন না। (সূত্র-বুখারি, হাদিস নং : ৫১৯৮; ইবনে মাজাহ, হাদিস নং : ৩৩৮২)

  • খাবারে ফুঁ না দেওয়া

  • খাবার ও পানীয়তে ফুঁ দেওয়ার কারণে অনেক ধরনের রোগ হতে পারে। (সূত্র-ইবনে মাজাহ, হাদিস নং : ৩৪১৩)

  • খাবার ডান দিক থেকে খাওয়া।

  • ছোটছোট লোকমা দিয়ে খাওয়া।

  • ভাঙ্গা পাত্রে না খাওয়া।

Sunday, April 13, 2025

ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার দোয়া

হযরত হুযাইফাহ (রা:) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা:) রাতের বেলায় নিজ বিছানায় শোয়ার (ঘুমানোর আগে) সময় নিজ হাত গালের নিচে রাখতেন। অতঃপর বলতেন- ‏ اَللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيَا উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহইয়া। অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনারই নামে মারা যাই আবার আপনারই নামে জীবন লাভ করি।’ আর যখন (ঘুম থেকে) সজাগ হতেন, তখন বলতেন- الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ উচ্চারণ- ‘আলহামদু লিল্লাহিল লাজি আহইয়ানা বা’দা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর।’ অর্থ : ‘সব প্রশংসা ওই আল্লাহর জন্য, যিনি মৃত্যুর পর আমাদের জীবন দান করেছেন এবং তার দিকেই আমাদের পুনরুত্থান।’ আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বিশ্বনবির ঘুমানোর এ ছোট্ট আমলটি নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
দ্বীন ইসলামের আমল

দ্বীন ইসলামের আমল